পারফেক্ট মেন্টর

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের সাকসেসফুল হওয়ার পথটা বেশ কঠিন ও লম্বা। এই কঠিন জার্নিটা বিভিন্নভাবে সহজ করে তুলতে কে হেল্প করে জানেন? একজন এক্সপার্ট মেন্টর। একজন এক্সপার্ট মেন্টরের গাইডলাইনে থেকে কাজ করলে একজন ফ্রিল্যান্সার তার ক্যারিয়ার গড়ার পথের বিভিন্ন বাধা সহজেই অতিক্রম করতে পারেন এবং নিজেকে একজন সাকসেসফুল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। 

আমি আমার পরিচিত অনেক ফ্রিল্যান্সারকে দেখেছি যারা এই মেন্টরের আন্ডারে কাজ করাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননা, এটা কিন্তু একেবারেই উচিত নয়। সত্যি বলতে যদি দক্ষ মেন্টরিংয়ের আন্ডারে থেকে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন তাহলে যে মিসটেকগুলো অন্যান্য ফ্রিল্যান্সাররা করে থাকে সেগুলো নিজের ক্ষেত্রে করা হয়না, আবার যেকোনো প্রবলেম সলভ করতেও মেন্টরের সাথে ডিসকাস করা যায় মন খুলে। কি? আরো জানতে চান? আজকের লেখায় আমি ডিসকাস করবো ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সাকসেস আনতে একজন মেন্টর কেমন রোল প্লে করেন এবং কিভাবে নিজের জন্য পারফেক্ট মেন্টর খুঁজে পেতে পারেন সে সম্পর্কে। 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে গ্রোথ আনতে মেন্টরের ভূমিকা কি? 

মেন্টর বলতে কি বোঝায় সেটা তো সবাই জানেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে মেন্টর হচ্ছেন এমন একজন স্কিলড পারসন যিনি কোনো একটা স্পেসিফিক বিষয়ে  নিজের এক্সপেরিয়েন্স ও নলেজ এর ওপর ভিত্তি করে অন্যদের গাইড করে থাকেন৷ যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মেন্টর হিসেবে কাজ করেন তাদের এই ফ্রিল্যান্সিং  সম্পর্কে এনাফ নলেজ তো থাকেই, উপরন্তু তাদের বেশিরভাগই এ ফিল্ডে লম্বা সময় ধরে কাজ করেছেন বলে তারা নিজেদের এক্সপেরিয়েন্সের ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদেরকে খুব ভালোমতো গাইড করতে পারেন। 

এবার আসা যাক ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে গ্রোথ আনার জন্য একজন মেন্টর কেমন ভূমিকা পালন করেন সে সম্পর্কে।

একজন মেন্টর থাকার সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সাররা যেসব ভুল নিজেরা করে থাকেন সেই ভুলগুলো নিজের করার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। কারণ যিনি মেন্টর তিনি সেই ভুলগুলো সম্পর্কে আগেই আপনাকে যথেষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন এবং জানিয়ে রাখবেন যে কিভাবে এ ভুলগুলো এড়ানো যেতে পারে।

এর ফলে আপনি তুলনামূলকভাবে অনেক কম পরিমাণে ভুল করবেন এবং ক্যারিয়ার গড়ার পথে থাকা বাধার সংখ্যাও কমে আসতে শুরু করবে। সাধারণত মেন্টরদের কাজের এক্সপেরিয়েন্স অনেকদিনের হওয়ায় তাদের নেটওয়ার্কও অনেক বড় থাকে। তাই তখন একজন ফ্রিল্যান্সার নিজের নেটওয়ার্ক বড় করার একটা দারুণ সুযোগ পেয়ে যান। এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, যদি নিজের মেন্টরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিজের নেটওয়ার্কিং বাড়াতে পারেন, তাহলে ফিউচারে অনেক বেনিফিট পেতে পারবেন। 

শুধু তাই নয়, যখন একজন ফ্রিল্যান্সার কোন একজন মেন্টরের আন্ডারে থেকে কাজ করেন , তখন তার মেন্টর একজন অ্যাকাউন্টেবিলিটি পার্টনারের রোল প্লে করেন। তখন সেই ফ্রিল্যান্সার কখন, কিভাবে কোন কাজ করছেন সে ব্যাপারে মেন্টরকে আপডেটেড রাখেন। এতে করে তার কাজের স্পিড ও কোয়ালিটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়ে যায়। 

এর পাশাপাশি একজন মেন্টর কিন্তু ফ্রিল্যান্সারদের ইনোভেশন ও ক্রিয়েটিভিটি স্কিল বাড়াতেও হেল্প করে থাকেন। কারন যখনই একজন ফ্রিল্যান্সার তার নিজের ক্রিয়েটিভিটিকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের কোনো আইডিয়া জেনারেট করতে যান, তখন তিনি তার মেন্টরের কাছ থেকে অপিনিয়ন নিতে পারেন। তখন তার মেন্টর তাকে বলে দিতে পারেন যে সেই আইডিয়াটা ভালো নাকি খারাপ। 

একইসাথে একজন ভালো মেন্টর ফ্রিল্যান্সারদের মনে তাদের নিজেদের আইডিয়া নিয়ে থাকা সমস্ত কনফিউশন দূর করে দিয়ে তাদের মোটিভেট করতে পারেন, যাতে করে তারা কনফিডেন্টলি নিজেদের গোল অ্যাচিভ করতে এগিয়ে যেতে পারেন। তাই বলা যেতে পারে যদি একজন মেন্টর থাকে তাহলে তার এক্সপার্ট গাইডেন্সের মাধ্যমে নিজের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে স্ট্যাবিলিটি আনা অনেকটা ইজি হয়ে যায়। 

মেন্টরিং কত ধরণের হয় এবং কিভাবে পারফেক্ট মেন্টর খুঁজে পাবেন?

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যদি কারো মেন্টরিংয়ের আন্ডারে থেকে ক্লায়েন্টদেরকে সার্ভিস দিতে চান, তাহলে তাকে সবার আগে ফাইন্ড আউট করতে হবে যে ঠিক কোন কারণে বা কোন বিষয়ে গাইড্যান্স পেতে তিনি মেন্টর খুঁজছেন। যেমন ধরুন, যদি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার একদম নতুন হয়ে থাকেন এবং কিভাবে এই ফিল্ডে ক্যারিয়ার গ্রো করতে হয় সে ব্যাপারে স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন চান, তাহলে এমন একজন মেন্টর বেছে নিতে হবে যিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে যারা বিগিনার তাদেরকে কিভাবে ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়, কিভাবে নিজের পোর্টফোলিও বিল্ডআপ করা যায় ইত্যাদি বিষয়ে মেন্টরিং করে থাকেন। 

আবার ধরুন যদি একজন ফ্রিল্যান্সার দীর্ঘদিন ধরে এই ফিল্ডে কাজ করে থাকেন এবং তিনি নিজের স্কিল কাজে লাগিয়ে একটা ফ্রিল্যান্সিং বিজনেস ডেভলপ করতে চান, তাহলে তাকে এমন একজন মেন্টরের হেল্প নিতে হবে যিনি বিজনেস মডেল, মার্কেটিং, ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন, ক্লায়েন্ট অ্যাকুউইজিশন ইত্যাদি বিষয়ে সে ফ্রিল্যান্সারকে গাইড করতে পারবেন। 

মোটকথা একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কেমন ধরনের মেন্টরিং বেছে নেবেন সেটা ডিপেন্ড করে এই ফিল্ডে কতদিন ধরে কাজ করছেন এবং এই ফিল্ডে ঠিক কিভাবে নিজের ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করতে চাইছেন এ দুটো বিষয়ের ওপর। 

এবার আসা যাক কিভাবে মেন্টর খুঁজে পেতে পারেন সে বিষয়টা সম্পর্কে। মেন্টর খুঁজে পাওয়ার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সারকে সবার শুরুতে যেটা করতে হবে সেটা হলো নিজের স্ট্রেন্থ ও উইকনেস খুঁজে বের করা। তারপরের কাজটা হলো এমন কোনো মেন্টরকে বেছে নেয়া যিনি সেই ফ্রিল্যান্সারের যে উইকনেস রয়েছে সেটাকে ওভারকাম করতে হেল্প করতে পারবেন। যেমন ধরুন, একজন ফ্রিল্যান্সারের যদি  মার্কেটিং স্কিল কম থাকে তাহলে তার উচিত হবে এমন একজন মেন্টরের সাহায্য নেওয়া যিনি মার্কেটিংয়ে এক্সপার্ট। আশা করি ব্যাপারটা ক্লিয়ারলি বুঝতে পেরেছেন। 

এর পাশাপাশি মেন্টর খুঁজে পাওয়ার জন্য নিজের পার্সোনাল নেটওয়ার্ককে মোটেও অবহেলা করা যাবে না। নিজের নেটওয়ার্ক থেকে মেন্টর সিলেক্ট করার মূল সুবিধা হচ্ছে নিজের নেটওয়ার্কের মোটামুটি সবার সাথেই পরিচয় থাকায় সেখান থেকে বেছে নেয়া মেন্টরের সাথে কমিউনিকেট করা ও তার গাইডলাইন ফলো করা অনেক ইজি হয়ে যায়। তাই মেন্টর খোঁজার প্লেস হিসেবে নিজের পারসোনাল নেটওয়ার্কে সার্চ করে দেখাকে আমি পারসোনালি রেকমেন্ড করবো। 

পার্সোনাল নেটওয়ার্ক ছাড়াও এখন দেখতে পাবেন অনেক সময় বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার মিটআপের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব মিটআপে এমন অনেকেই অ্যাটেন্ড করেন যারা দীর্ঘদিন ফ্রিল্যান্সিং ফিল্ডে কাজ করেছেন ও নিজেদের এক্সপেরিয়েন্সের মাধ্যমে একটা ভালো পজিশনে যেতে পেরেছেন।  চাইলে এই মানুষগুলোর সাথে ধীরে ধীরে কানেকশন বিল্ডআপ করতে পারেন। তারপর তাদেরকে পোলাইটলি অফার করতে পারেন আপনাকে মেন্টরিং করার জন্য। 

এছাড়াও চাইলে অনলাইনে অ্যাভেলেবল বিভিন্ন মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম বেছে নিতে পারেন। এসব মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম সাধারণত একটা স্পেসিফিক টাইমের জন্য এভেইলেবল থাকে এবং স্পেসিফিক অ্যামাউন্টের ফী দেয়ার পর মেন্টরিং পাওয়া যায়। তবে যদি ইন্টারন্যাশনাল মেন্টরশিপ প্রোগ্রামে জয়েন করে থাকেন, তাহলে নিজের ইংলিশ স্কিল একটু ভালো হতে হবে। 

এটুকুই ছিল আমাদের আজকের ডিসকাশন। আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন যে ফ্রিল্যান্সারদের ক্যারিয়ারকে নেক্সট লেভেলে নিয়ে যেতে একজন এক্সপার্ট মেন্টর কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরিশেষে এটুকুই বলতে পারি, শুধুমাত্র একজন ভালো মেন্টর খুঁজে পেলেই কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সার সাকসেসফুল হতে পারেননা। বরং সাকসেসফুল হওয়ার জন্য প্রয়োজন নিজের মেন্টরের গাইড লাইন গুলো প্রোপারলি ফলো করা এবং নিজের স্কিলের ওপর ভরসা রেখে কাজ করে যাওয়া।

 

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Comment