লিংকডইন থেকে ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়ার ইফেকটিভ স্ট্র‍্যাটেজি!!

প্রফেশনালদের সাথে নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য সবচাইতে সুপরিচিত প্ল্যাটফর্ম হলো লিংকডইন। লিংকডইন এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে গোটা বিশ্বের বিভিন্ন পেশায় কর্মরত মানুষের সাথে কানেকটেড হওয়া যায়। বলা যেতে পারে, প্রফেশনাল লাইফে নিজেকে ডেভেলপ করার জন্য এখানে একটা প্রোফাইল থাকা আজকালকার দিনে কিন্তু ম্যান্ডেটরি। এখন মজার বিষয় হলো, শুধুমাত্র যারা জব করেন কিংবা বিজনেস করেন তাদের জন্যই নয়, পাশাপাশি যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদের জন্যে ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে লিংকডইন খুবই ইফেকটিভ। অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে যুক্ত রয়েছেন অথচ জানেননা যে এই প্রফেশনাল প্ল্যাটফর্মে সঠিক স্ট্র‍্যাটেজি কাজে লাগানোর মাধ্যমে নিজের মনের মতো ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়া পসিবল। আজকের লেখায় আমি লিংকডইন থেকে ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়ার ইফেকটিভ স্ট্র‍্যাটেজিগুলো ডিটেইলে শেয়ার করবো। এই স্ট্র‍্যাটেজিগুলো ফলো করলে ফ্রিল্যান্সিং বিজনেসে লং-টার্মের জন্য ক্লায়েন্ট পেতে আর কষ্ট করতে হবেনা। 

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে লিংকডইনের ব্যবহার কেন এত বেশি ইফেকটিভ?

সত্যি বলতে, ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়ার তো অনেক উপায় রয়েছে। কিন্তু এটা কি একবারো ভেবে দেখেছেন ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য লিংকডইনের জনপ্রিয়তা এত বেশি কেন? চলুন শুরুতেই জেনে আসা যাক লিংকডইনে এমন স্পেশাল কি ফিচারজ আছে যার কারণে এটাকে বিশ্বের বহু ফ্রিল্যান্সার ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়ার জন্য ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম মনে করেন। প্রথমত, লিংকডইনে বিভিন্ন কোম্পানির পেইজ থাকে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর এমপ্লয়িরাও এখানে অ্যাকটিভ, যারা হতে পারেন একজন ফ্রিল্যান্সারের পটেনশিয়াল ক্লায়েন্ট। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, যদি একজন ফ্রিল্যান্সারের লিংকডইনে প্রোফাইল থাকে, তাহলে পটেনশিয়াল ক্লায়েন্টদের কাছে খুঁজে পেয়ে তাদেরকে রিচ করা কতটা ইজি হয়ে যায়! 

সাথে অ্যাডভান্টেজ হিসেবে আমি বলবো,

লিংকডইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে একজন মানুষ একটা স্পেসিফিক ফিল্ডে কাজ করা মানুষদের খুঁজে পেতে পারে। যেমন উদাহরণ হিসেনে মনে করুন, কারো গ্রাফিক ডিজাইন বিজনেস রয়েছে। তিনি চাইলে লিংকডইনের সার্চবারকে কাজে লাগিয়ে এই রিলেটেড সার্ভিস কাদের প্রয়োজন কিংবা ফিউচারে প্রয়োজন হতে পারে সেটা বের করে ফেলতে পারেন। 

পাশাপাশি বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ফেসবুক, টুইটার কিংবা পিন্টারেস্টের তুলনায় লিংকডইনের পোস্টগুলোর রিচ এবং অডিয়েন্সের এনগেজমেন্ট তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এছাড়াও, লিংকডইন এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে নিজেকে প্রমোট করার প্রসেসটা অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সিস্টেম্যাটিক আর প্রফেশনাল। একারণে যদি একটু মাথা খাটিয়ে নিজেকে প্রোমোট করতে পারেন, তাহলে খুব সহজে যেমন ধরণের ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে ইন্টারেস্টেড, তাদেরকে খুঁজে পাবেন।

লিংকডইন ব্যবহার করে ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়ার জন্য ফলো করুন সুপার ইফেকটিভ এই স্ট্র‍্যাটেজিগুলো 

আশা করি, এতক্ষণে সবাই বুঝতে পেরেছেন ফ্রিল্যান্সারদের নিজেকে প্রোমোট করার জন্য, বেশি বেশি ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য জন্য এবং সর্বোপরি লং-টার্মে সাকসেসফুল হওয়ার জন্য লিংকডইনের সঠিক ব্যবহার কত বেশি পাওয়ারফুল হতে পারে। মনে রাখবেন, যত দিন যাচ্ছে এই প্ল্যাটফর্মের ইউজারের সংখ্যা তত বাড়ছে। অনেক ফ্রিল্যান্সারই রেগুলার বেসিসে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন। একারণে যদি ইফেকটিভ স্ট্র‍্যাটেজি ফলো না করেন, তাহলে কিন্তু সারাজীবন স্ট্রাগলই করে যেতে হবে। এটা যেন না হয় সেজন্যে চলুন এবার দেরি না করে জেনে আসি সেই স্ট্র‍্যাটেজিগুলো সম্পর্কে। 

  • বলুন তো লিংকডইনের মাধ্যমে কাউকে চেনার প্রথম ধাপটা কি? সেটা হলো তার প্রোফাইল। একারণে লিংকডইনে একটা প্রোফেশনালি ডিজাইন করা প্রোফাইল থাকা আবশ্যক। কেননা, যদি নিজের প্রোফাইল সঠিকভাবে সাজানো থাকে, তাহলে সেই প্রোফাইলে নিজের এক্সপার্টাইজ গুছিয়ে তুলে ধরা যায়, যেটা কিন্তু খুব সহজেই পটেনশিয়াল ক্লায়েন্টদের অ্যাটেনশন গেইন করে। তাই লিংকডইন ব্যবহার করে ক্লায়েন্ট খুঁজে পাওয়ার অন্যতম প্রধান স্ট্র‍্যাটেজি হিসেবে আমি সাজেস্ট করবো শুরুতেই নিজের প্রোফাইল সঠিকভাবে সাজিয়ে নিন। 

  • শুধুমাত্র নিজের প্রোফাইল প্রফেশনালদের মতো সাজিয়ে নিলেই কিন্তু কাজ শেষ নয়, বরং সেই প্রোফাইল মেইনটেইন করতে হবে সঠিকভাবে। কারণ, যাদেরকে নিজের প্রোফাইলে অ্যাড করবেন, তাদের মধ্যের বেশিরভাগই আগে থেকে পরিচিত থাকেননা। তাই তাদের সামনে নিজের ইমপ্রেশন ঠিক রাখতে লিংকডইন প্রোফাইল সঠিকভাবে মেইনটেইন করতে হবে। যেমনঃ অযথা ইনফরমাল ল্যাংগুয়েজে পোস্ট করা যাবেনা, ইনফরমাল ছবি, ভিডিও পোস্ট করা যাবেনা ইত্যাদি। এভাবে যখন পটেনশিয়াল ক্লায়েন্টদের সামনে নিজের প্রফেশনালিজম প্রমাণ করতে পারবেন, তখন তাদের সাথে কাজ করতে পারার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। 
  • এবার আসি কানেকশনের ব্যাপারে। লিংকডইনে এমন অনেক মানুষের প্রোফাইল দেখতে পাবেন যারা রেগুলারলি নিজেদের প্রোফাইলে বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় পোস্ট করেন এবং তাদেরকে অনেক বেশি ইনফ্লুয়েনশিয়াল মনে হয়। এমন ধরণের মানুষকে কানেকশন রিকুয়েষ্ট পাঠাতে পারেন। এতে করে নেটওয়ার্কিং বাড়বে যা ফিউচারে হেল্পফুল হবে। ইনফ্লুয়েন্সারদেরকে কানেক্টেড করার পাশাপাশি নিজস্ব নিশ এবং স্পেসিফিক ইন্ডাস্ট্রিকে টার্গেট করে আপনার আইডিয়াল ক্লায়েন্ট হতে পারে এমন অডিয়েন্সদেরকে কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠাবেন। স্পেসিফিক পিপল দেরকে খুঁজে পাওয়ার জন্য লিংকডইন সেলস নেভিগেটর এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন। 
  • লিংকডইন থেকে ক্লায়েন্ট পেতে হলে শুরুতেই নিজের স্ট্রেন্থ জানতে হবে। এক্ষেত্রে একজন ফ্রিল্যান্সারকে ডিফাইন করতে হবে যে তার এক্সপার্টাইজ কোন সেক্টরে কতটুকু এবং এটার ওপর ভিত্তি করে তিনি ক্লায়েন্টদেরকে কনফিডেন্টলি ঠিক কোন কোন সার্ভিস অফার করতে পারবেন। অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিংয়ের নিশ ডিফাইন করে ফেলতে হবে। যখন কেউ তার নিশ ডিফাইন করে ফেলতে পারেন, তখন টার্গেট অডিয়েন্স কারা সেটা আইডেন্টিফাই করা অনেক ইজি হয়ে যায় যা পরবর্তীতে ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে অনেকভাবে কাজে আসে। 
  • নিজের টার্গেট মার্কেট এবং আইডিয়াল ক্লায়েন্টদেরকে ডিফাইন করতে পারা সবচাইতে ইফেকটিভ লিংকডইন স্ট্র‍্যাটেজিগুলোর মধ্যে একটা। যখন একজন ফ্রিল্যান্সার তার নিশ জানেন, তখন তার পরের কাজটা হলো টার্গেট মার্কেট ডিফাইন করে সেখানকার আইডিয়াল ক্লায়েন্টদের খুঁজে বের করা, তাদের সাথে কানেক্টেড হওয়া এবং তাদের কাছে রিচ আউট করা। আইডিয়াল ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে সার্চ ইঞ্জিন, কানেকশন সাজেশন ইত্যাদির হেল্প নিতে পারেন। পাশাপাশি ভেবে দেখতে হবে কোন ক্লায়েন্টদের সাথে নিজের ইন্টারেস্ট ম্যাচ করে এবং আপনার প্রোভাইড করা সার্ভিস কাদের সবচেয়ে বেশি নেয়া প্রয়োজন।
  • যখন বুঝতে পারবেন যে কেউ আইডিয়াল ক্লায়েন্ট হতে পারেন, তখন তাকে লিংকডইনের ইনবক্সে মেসেজ সেন্ড করতে হবে৷ এক্ষেত্রে মেসেজের ধরণ এমন হতে হবে যাতে করে একইসাথে নিজের স্কিল সেখানে হাইলাইট করা যায় এবং যাকে মেসেজ সেন্ড করা হবে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি সেই ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে সার্ভিস নিয়ে দেখতে পারেন। তবে অবশ্যই এখানে স্প্যামিং করা যাবে না। আমরা জেনেরালি যেটা করি কানেক্টেড হওয়ার সাথে সাথেই নিজেদের সার্ভিস বা অফার প্রমোট করার জন্য উঠেপড়ে লেগে পড়ি। এই কারণে পটেনশিয়াল পিপলরা আমাদেরকে স্প্যামার ভাবে এবং আমাদের প্রোফাইল রিপোর্ট অথবা ব্লক করতে বাধ্য হয়। দেখুন, সোশ্যাল মিডিয়া যখন আপনি ব্যবহার করবেন আপনাকে অবশ্যই একটা সোশ্যাল সিস্টেম মেইনটেইন করে সিস্টেম বিল্ড আপ করতে হবে আদারওয়াইজ সারাদিন আউটরীচ করেও কোনো লাভ হবে না। কাউকে রিচ আউট করতে হলে অবশ্যই তার সম্পর্কে ভালো ভাবে রিসার্চ করে এবং একটা বন্ডিং বা রিলেশনশিপ বিল্ড আপ করে আপনাকে নেক্সট স্টেপ এ যেতে হবে। 
  • লিংকডইন থেকে ক্লায়েন্ট পেতে চাইলে হাই কোয়ালিটির কন্টেন্ট পোস্ট করতে হবে। যেমনঃ নিজের লেখা আর্টিকেল, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি। আর্টিকেলের ক্ষেত্রে সেগুলো যেন ইনফরমেটিভ হয় এবং অন্যদের চাইতে ইউনিক হয় সেই বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যেন রেগুলার বেসিসে প্রোফাইলে কন্টেন্ট পোস্ট করা হয়। কারণ যত বেশি রেগুলারলি পোস্ট করা হবে, তত বেশি মানুষের অ্যাটেনশন নিজের দিকে নিতে পারবেন। পাশাপাশি যেন এসব পোস্ট ভালো রিচ পায়, তাই পোস্টে সঠিক কিওয়ার্ড এবং হ্যাশট্যাগ ইউজ করতে হবে। এর ফলে দেখা যাবে এসব পোস্টের মাধ্যমেই অনেক ক্লায়েন্টের অ্যাটেনশন গেইন করা পসিবল হবে। 

সুতরাং এটুকুই ছিলো লিংকডইন থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্লায়েন্ট পাওয়ার স্ট্র‍্যাটেজি সংক্রান্ত আজকের আলোচনা। এসব স্ট্র‍্যাটেজি ফলো করার পাশাপাশি নিজের কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপ করার ওপরেও জোর দিতে হবে। সাথে নিজে যে সেক্টরে ক্লায়েন্টদের সার্ভিস দিয়ে থাকেন, সেই সেক্টরে নিজেকে স্কিলের দিক থেকে আপডেটেড রাখতে হবে। তাহলেই দেখবেন ধীরে ধীরে ভালো আউটপুট পেতে শুরু করবেন ইনশাআল্লাহ। 

 

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Comment