ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার

ফিনানশিয়ালি নিজেকে ইনডিপেনডেন্ট দেখতে কে না চান? কমবেশি সবাই চান যে তারা একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবেন, নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করার পাশাপাশি ফ্যামিলিকেও প্রোপার সাপোর্ট দেবেন। সত্যি বলতে, আজকালকার দিনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সবার চারপাশে অনলাইন কিংবা অফলাইন বিভিন্নরকম কাজের অপশন এভেইলেবল রয়েছে। তবে এ অপশনগুলোর মধ্যে অনলাইন ইনকাম সবার কাছে একটু বেশি ই প্রেফারেবল। কেননা অনলাইন ইনকামের ক্ষেত্রে নিজের সুযোগ -সুবিধামতো কাজ করার বেনিফিট পাওয়া যায় যেটা অফলাইন ইনকামে নেই বললেই চলে। চলুন এবার আজকের মেইন টপিকে যাই। সবাই নিশ্চয়ই এতদিনে ফ্রিল্যান্সিং ওয়ার্ডটা অনেকবার শুনেছেন? এই ফ্রিল্যান্সিং কিন্তু অনলাইনে ইনকাম করারই অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। আমি অনলাইনে এই ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করার পর যেটা বুঝলাম সেটা হলো বেশিরভাগ জায়গাতেই বিগিনারকে গাইডলাইন দেয়ার নাম করে ফ্রিল্যান্সিং করে কিভাবে অল্পদিনে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায় সেদিকেই অনেক বেশি ফোকাস করা হচ্ছে। এসব গাইডলাইন দেখে বেশিরভাগ বিগিনাররা বায়াসড হয়ে আগেপিছে না ভেবেই ফ্রিল্যান্সিং স্টার্ট করছেন এবং পরবর্তীতে এক্সপেকটেড আউটপুট না পেয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। তাই আজকে আমি স্পেশালি বিগিনারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করার জন্য যেসব বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন সেগুলো নিয়ে আমার নলেজ শেয়ার করবো। এক্সপেক্ট করছি আজকের এই আর্টিকেলটা পড়ার পর এই সেক্টর নিয়ে যারা ডিটেইলড গাইডলাইন চাচ্ছিলেন তাদের অনেকটা হেল্প হবে। 

ফ্রিল্যান্সিং কী এবং কী কী কাজের সুযোগ রয়েছে?

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে চাইলে সবার আগে এটার কনসেপ্ট সম্পর্কে ক্লিয়ার আইডিয়া থাকা প্রয়োজন।  তাই চলুন শুরুতেই জেনে আসা যাক ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে। আমি শুরুতেই বলেছি ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইনে ইনকাম করার একটা জনপ্রিয় মাধ্যম। বর্তমানে ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে পারটিকুলারলি এ সেক্টরে কাজ করার ব্যাপক ইন্টারেস্ট দেখা যাচ্ছে। সহজ ভাষায় ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইনে নিজের স্কিলকে কাজে লাগিয়ে ক্লায়েন্টদেরকে বিভিন্নরকম সার্ভিস প্রোভাইড করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা। 

ফ্রিল্যান্সিং অনেক বড় একটা ক্যারিয়ার ফিল্ড যেখানে বিভিন্নরকম কাজের সুযোগ রয়েছে। যেমনঃ গ্রাফিক ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ইত্যাদি। এ কাজগুলো করার জন্য কিছু স্পেসিফিক স্কিল থাকা দরকার। যাতে করে কাজগুলো নিখুত ভাবে করা যায়। 

সুতরাং কেউ যদি ফ্রিল্যান্সার হতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই অন্তত যেকোনো একটা কাজে যথেষ্ট স্কিলড হতে হবে। যেমন ধরুন, কেউ যদি ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চান তাহলে তাকে গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কিত যথেষ্ট নলেজ এবং স্কিল থাকতে হবে। আবার কেউ যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করতে চান, তাহলে তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে এমন ভাবে জানতে হবে যাতে করে তিনি ক্লায়েন্টের সমস্ত রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল করতে পারেন। 

 

অন্যান্য পেশার সাথে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ডিফারেন্স কোথায়?

যারা নিজেরমতো করে কাজ করতে ভালোবাসেন তাদের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়া উচিৎ। এই ফ্রিল্যান্সিংকে স্বাধীন পেশা বলা হয়ে থাকে। এর কারণ হলো একজন ফ্রিল্যান্সার দিনে কতঘন্টা সময়ে কতটুকু কাজ করবেন সেটা তিনি নিজেই ডিসাইড করেন।

এছাড়াও অন্যান্য কাজের সাথে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অন্যতম মেজর একটা পার্থক্য হচ্ছে  ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে রেগুলার বেসিসে কোন স্পেসিফিক প্লেসে বসে কাজ করার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এটা অনলাইনবেজড হওয়ায় কাজ করতে চাইলে কেউ তার নিজের পছন্দমতো যেকোন জায়গায় বসে কাজ করতে পারবেন। 

শুধু তাই ই নয়, এই ক্যারিয়ার ফিল্ডে নিজের পছন্দমতো রেটে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেমেন্ট নেয়ারও সুযোগ রয়েছে। কেউ চাইলে একেকটা প্রোজেক্ট শেষ হওয়ার পরেই পেমেন্ট নিতে পারেন। অথবা চাইলে আওয়ারলি বা উইকলি বেসিসেও পেমেন্ট নিতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, একজন চাইলে তার নিজের প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে এই ফিল্ড থেকে ভালো একটা অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে পারেন। যেমন ধরুন, কারো যদি লেখালেখিতে প্যাশন থাকে, তাহলে তিনি একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার হতে পারেন। এতে করে যেমন তিনি নিজের প্যাশনকে প্রফেশন হিসাবে নিতে পারবেন, তেমনিভাবে কিন্তু কাজ ভালো হলে ইনকামটাও মন্দ হবেনা। অর্থাৎ, একঢিলে দুই পাখি মারা হবে, কি বলেন?

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা যায়? 

এখন নিশ্চয়ই সবার মনে এই প্রশ্নটা ঘুরছে যে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে সেটা কিভাবে করা যেতে পারে? আর ক্লায়েন্ট খোঁজার কাজটা কিভাবে করা হয়? সবার কনফিউশান আমি এক্ষুনি ক্লিয়ার করে দিচ্ছি। ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু মোস্টলি অনলাইনেই করা হয়, তাই এ পেশায় আসতে চাইলে হাতের কাছে ইন্টারনেটের অ্যাকসেস থাকা ম্যান্ডেটরি। এছাড়াও ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ থাকতে হবে। অনেকে বলেন মোবাইলেও ফ্রিল্যান্সিং করা পসিবল কিন্তু আমি বলবো ল্যাপটপ কিংবা পিসিতেই কাজ করতে। এরপর আসে ক্লায়েন্ট খোঁজার পালা কারণ তাদেরকে সার্ভিস প্রোভাইড করার মাধ্যমেই আর্নিংটা আসে। যারা ফ্রিল্যান্সিং পেশার সাথে জড়িত, তারা মেইনলি বিভিন্ন অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে ক্লায়েন্ট খোঁজার কাজটা করে থাকেন। 

ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো সেসব ওয়েবসাইট যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা পেমেন্টের বিনিময়ে ক্লায়েন্টদের কাছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সার্ভিস সেল করে থাকেন। জনপ্রিয় কয়েকটা ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডট কম ইত্যাদি ৷ এসব সাইটে ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে শুরুতেই নিজের ব্যাপারে সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে প্রোফাইল ক্রিয়েট করতে হয়।

ক্ষেত্রবিশেষে এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে প্রোফাইল ভেরিফাই করতেও বলা হয়। এরপর ফ্রিল্যান্সাররা এসব সাইটে গিগ ক্রিয়েট করে তাদের নিজেদের স্কিল এবং কোন ধরণের সার্ভিস অফার করছেন সে সম্পর্কে পোস্ট করেন এবং পরবর্তীতে ক্লায়েন্টদের সাথে কন্টাক্ট করে থাকেন। এরপর ক্লায়েন্টদের পছন্দ হলে তারা সে ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করেন। 

ফ্রিল্যান্সিং সাইটে পেমেন্ট নিয়ে তেমন একটা ঝামেলা পোহাতে হয়না। কাজ ডেলিভারি দেয়ার পরপরই অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট অ্যাড হয়ে যায়। এ পেমেন্ট জেনারেলি ডলারে করা হয় যেটা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর আস্তে আস্তে ক্লায়েন্টদেরকে সার্ভিস দেয়ার মাধ্যমে নিজের রেপুটেশন বাড়ে। যা এই ফিল্ডে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে অনেক হেল্প করে। 

ফ্রিল্যান্সিং সাইট ছাড়াও সোশাল মিডিয়া থেকে ক্লায়েন্ট খুঁজেও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। যেমনঃ বর্তমানে ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সিংবেজড বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে ক্লায়েন্টরা তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করার জন্য পোস্ট করেন যেগুলো দেখে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সাথে কনটাক্ট করেন। এছাড়াও অনেক সময় ফ্রিল্যান্সাররাও তাদের নিজেদের স্কিল সম্পর্কে পোস্ট করেন যেগুলো দেখার মাধ্যমে অনেক সময় ক্লায়েন্টরা তাদেরকে হায়ার করেন। 

এছাড়াও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে চাইলে যে জিনিসটা থাকা খুবই জরুরি সেটা হলো ইংরেজিতে ভালো দখল থাকা। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে দেশের বাইরের ক্লায়েন্টদের সাথে কমিউনিকেট করতে হয়, তাই তাদের সাথে ইংলিশে কমিউনিকেট করতে পারা খুবই জরুরি। নাহলে ক্লায়েন্টদের ডিমান্ড তো বুঝতে পারবেনই না, উপরন্তু ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতেও স্ট্রাগল করতে হবে৷ একারণেই ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে নিজের ইংলিশের স্কিল কতটুকু রয়েছে সেটা ফাইন্ড আউট করে ফেলুন। যদি ইংরেজিতে দুর্বলতা থেকে থাকে, তাহলে ইউটিউব দেখে কিংবা কোন শর্ট কোর্স করে নিজের ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন। 

কিভাবে শুরু করবেন? 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে স্কিলড হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি নিজের এনাফ স্কিল না থাকে তাহলে কখনোই এখানে ভালো পজিশনে যেতে পারবেননা। আর স্কিলড হতে চাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আপনি নিজে প্যাশনেট কিনা সেটা আগে খুঁজে বের করুন। কেননা যদি প্যাশন না থাকে, তাহলে দেখা যায় পটেনশিয়াল থাকার পরেও অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হয়। অন্যদিকে যদি এই ফিল্ডে প্যাশনেট থাকেন, তাহলে দেখবেন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং প্রোজেক্টও ইজিলি হ্যান্ডেল করতে পারবেন। 

এক্ষেত্রে বিগিনারদেরকে আমি একটা সাজেশন দিতে চাই। সেটা হলো কখনোই কাউকে একটা কাজে ভালো করতে দেখে নিজেও সেই কাজটা করা শুরু করে দেবেননা। আমি প্যান্ডেমিক শুরু হওয়ার পর থেকে অনেককে দেখেছি হুজুগে পড়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে। তারা নিজেরা জানার ট্রাইও করেনি তারা এটার প্রতি প্যাশনেট কিনা। অথচ দেখেছি  ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছে। হয়তো কেউ ফেসবুকে দেখেছে একজন ফ্রিল্যান্সার গ্রাফিক ডিজাইনে কাজ করে সাকসেসফুল হয়েছে, সেটা দেখার পর তার মনে হলো সেও গ্রাফিক ডিজাইনার হবে। অথচ তার কিন্তু প্যাশনই নেই, টাকা ইনকাম করাই তার মেইন ফোকাস। তাই পরবর্তীতে দেখা যায় সে ক্লায়েন্টদের ডিমান্ড ঠিকমতো ফুলফিল করতে না পেরে হতাশ। এমন কেইস কিন্তু একটা দুইটা নয়, বরং একটু খুঁজলে এমন কেইস ভুরি ভুরি পাবেন। এমনটা যেন না হয়, সেজন্যে নিজের প্যাশন ফাইন্ড আউট করতে সেটার পেছনে টাইম দিন। 

যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি প্যাশনেট হয়ে থাকেন, অর্থাৎ এ ফিল্ডে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার জন্য সত্যিকার অর্থে ইন্টারেস্টেড হয়ে থাকেন, তার পরবর্তী কাজটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন নিশ নিয়ে কাজ করবেন সেটা সিলেক্ট করা। এখানে কিন্তু বিভিন্ন রকম কাজের অপোরচুনিটি আছে, তাই নিশ সিলেক্ট করতে গিয়ে মাথা একটু ঘুরে যাওয়াটাই ন্যাচারাল।

এক্ষেত্রে আমি বলবো প্রতিটা কাজ নিয়ে আগে একটু রিসার্চ করে দেখুন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কোন কাজের ডিমান্ড কত বেশি বা কম সেটা দেখুন এবং নিজের কোন কাজের প্রতি ইন্টারেস্ট কাজ করছে সেটা দেখুন। কোনো এক্সপার্টের কাছ থেকে কনসাল্টেশনও নিতে পারেন। 

নিশ সিলেক্ট করার পরের কাজটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করার জন্য আসল কাজ। সেটা হচ্ছে যেই নিশ সিলেক্ট করেছেন সেটাতে নিজের স্কিল ডেভেলপ করা। সবসময় মনে রাখবেন, যে নিশই সিলেক্ট করুননা কেন, সেটায় প্রোপারলি নিজের স্কিল ডেভেলপ করা একদম ম্যান্ডেটরি।

এক্ষেত্রে স্কিল ডেভেলপ করার জন্য যদি নিজে নিজে শিখতে চান তাহলে ইউটিউবের হেল্প নিয়ে দেখতে পারেন। বর্তমানে ইউটিউবে পাওয়া যায়না এমন কোনো ভিডিওর টপিক নেই। আর বিনা ইনভেস্টমেন্টে শেখার জন্য ইউটিউব বিগিনারদের জন্য বেশ ভালো চয়েস। আর যদি স্কিল ডেভেলপ করার পেছনে ইনভেস্ট করতে চান, তাহলে কোনো ইন্সটিটিউট থেকে কোর্স করতে পারেন। এসব ইন্সটিটিউটের সুবিধা হলো হাতে কলমে শেখা যায় এবং কোন প্রবলেম ফেইস করলে মেন্টরের কাছ থেকে সলভ করে নেয়া যায়। এছাড়াও এখন অনলাইনেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের লাইভ কিংবা প্রি-রেকর্ডেড কোর্স করানো হয়। চাইলে সেগুলো ও পারচেজ করতে পারেন। 

তবে যেভাবেই শিখুননা কেন, রেগুলার প্র‍্যাকটিস কিন্তু করতেই হবে। কথায় আছে, প্র‍্যাকটিস মেইকস অ্যা ম্যান পারফেক্ট। এ কথাটা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের স্কিল বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অ্যাপ্লিকেবল। মনে রাখবেন, যত বেশি প্র‍্যাকটিস করবেন, নিজের এক্সপার্টাইজ তত বাড়বে৷ আর বারবার প্র‍্যাকটিস করলে ক্লায়েন্ট যত ক্রিটিকাল প্রোজেক্টই দিকনা কেন, সেই প্রজেক্টে কাজ করতে কোনোরকম বাড়তি প্রবলেমই ফেস করতে হবেনা৷ 

এরপরের কাজটা হচ্ছে নিজের পোর্টফোলিও বানানো যেটা ক্লায়েন্টদেরকে আকর্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় স্টেপ গুলোর একটা। ফ্রিল্যান্সিং ফিল্ডে ক্লায়েন্ট পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ক্লায়েন্টদেরকে ইমপ্রেস করা যাতে করে তারা অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে আপনার কাছ থেকেই সার্ভিস নেয়। আর এজন্যে প্রয়োজন স্ট্রং পোর্টফোলিও থাকা। মনে রাখবেন, ক্লায়েন্টদেরকে কখনোই মিষ্টি কথায় গলাতে পারবেননা। একারণে ক্লায়েন্টদেরকে ইমপ্রেস করার জন্য নিজের পোর্টফোলিও বানাতে সেটার পেছনে টাইম দিতে কার্পণ্য করবেননা। 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নেক্সট কাজটা হলো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে প্রোফাইল ক্রিয়েট করে সেখানে নিজের সার্ভিস সেল করা। যারা নতুন তারা কোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করলে বেটার হবে সেটা বুঝতে পারেননা ৷ বিগিনারদের জন্য কোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো ভালো হবে সেটা নিয়ে আমার লেখা একটা ডিটেলড আর্টিকেল আছে। সেই আর্টিকেলটা পড়ে দেখতে ভুলবেননা। 

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে কতদিন লাগে এবং কেমন আর্নিং হয়? 

আমি জানি এতক্ষণে সবাই হিসাব নিকাশ করতে শুরু করেছেন যে ফ্রিল্যান্সিং করে একটা স্টেবল ক্যারিয়ার বানাতে এবং হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্টের আর্নিং জেনারেট করতে কতদিন লাগতে পারে। একচুয়ালি এটা একেকজনের স্কিল, হার্ডওয়ার্ক, প্যাশন এবং অবশ্যই লাকের ওপর ডিপেন্ড করে। যদি আপনি এনাফ হার্ডওয়ার্কিং হয়ে থাকেন, ক্লায়েন্টদেরকে প্রোপারলি হ্যান্ডেল করেন, তাদেরকে সঠিকভাবে সার্ভিস দেন, তাহলে দেখতে পাবেন ধীরে ধীরে সেল বাড়বে। অনেক সময় দেখা যায়, ক্লায়েন্টরা কাজে স্যাটিসফাইড হয়ে ফ্রিল্যান্সারদেরকে লং টার্ম প্রোজেক্টের জন্য হায়ার করে নেন। ধরে রাখতে পারেন, যদি সবকিছু প্রোপারলি করেন তাহলে ইনশাআল্লাহ কয়েকমাসের মধ্যেই একটা ভালো আউটপুট পাবেন৷  

এটুকুই ছিলো বিগিনারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা সংক্রান্ত আজকের ডিসকাশন। আমি লাস্টে যেটা বলবো সেটা হলো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে টাইম দেয়ার পাশাপাশি নিজের একটা ফ্রিল্যান্সিং বিজনেস দাঁড় করানোর মাইন্ডসেট সবারই থাকা উচিৎ। এতে করে শুধুমাত্র সাইটের ওপর ডিপেন্ডেন্স না থেকে একটা ব্যাকআপ সবসময় থাকবে। পাশাপাশি মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সাকসেসফুল হওয়ার কোনো শর্টকাট নেই। তাই যদি সাকসেস পেতে চান, তাহলে নিজের হান্ড্রেড পারসেন্ট দিয়ে লেগে থাকুন৷ 

 

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

Leave a Comment